ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পাঁচ বোনকে বঞ্চিত করে প্রায় ৩০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই দারোগাবাড়ির বাসিন্দা নার্গিস আক্তার। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (৪র্থ) আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ও অসুস্থ থাকা বাবার নামে জালিয়াতির মাধ্যমে হেবা ঘোষণাপত্র তৈরি করে সম্পত্তি নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন অভিযুক্তরা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর বাবা একিউএম নূরুল হুদা সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের অরুয়াইল গ্রামের বাসিন্দা এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। চাকরি জীবনে তিনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তির মালিক হন। ২০০০ সালে অবসরে যাওয়ার পর ২০০৫ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি প্যারালাইজড হন এবং দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ছিলেন। এ সময় তিনি স্বজনদেরও চিনতে পারতেন না বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। গত ৩১ জানুয়ারী ২০২৫ তারিখে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি পাঁচ মেয়ে ও চার ছেলে রেখে যান।
বাদীর অভিযোগ, বাবা শয্যাশায়ী থাকা অবস্থায় ২০০৯ সালের ৯ জুলাই এবং ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর অন্য একজনকে একিউএম নূরুল হুদা পরিচয়ে হাজির করে ২৮৬৪/২০০৯, ৪৩৮৮/২০২০ ও ৮৩৮৯/২০২০ নম্বর হেবা ঘোষণাপত্র দলিল সম্পাদন ও নিবন্ধন করা হয়। পরে এসব দলিল গোপন রেখে অরুয়াইল ও বাদে অরুয়াইল মৌজার মূল্যবান পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়।
মামলায় আসামি করা হয়েছে একেএম রফিকুল ইসলাম (৬৫), বশির আহমেদ (৫৩), সাব্বির আহমেদ (৪৪), খালেদ সাইফুল্লাহ (৪৬)সহ মোট নয়জনকে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, অরুয়াইল ও বাদে অরুয়াইল মৌজার বিএস ২৫৫ ও ৪৩৬ নম্বর খতিয়ানের আওতাধীন মোট ৫৮৮ দশমিক ৭৪ শতক জমি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে, যার বাজারমূল্য অন্তত ৩০০ কোটি টাকার বেশি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির কর্মকর্তা এসআই সুমন চন্দ্র গোপ বলেন, “মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। আমরা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টি তদন্ত করছি।”
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এএসএম ইউসুফ ভূঁইয়া রিপন বলেন, “হেবা দলিলে থাকা একিউএম নূরুল হুদার স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তা হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার অন্যতম আসামি ও মৃত একিউএম নূরুল হুদার ছেলে একেএম রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমার বাবা সুস্থ মস্তিষ্কে আমাদের নামে সম্পত্তি দলিল করে দিয়েছেন। তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ছিলেন না, যদিও শেষদিকে কথা বলতে অসুবিধা হতো। তিনি একজন ধর্মপ্রাণ আলেম ছিলেন এবং ছেলে-মেয়ে সবার জন্যই সম্পত্তির ব্যবস্থা করে গেছেন। তাই নার্গিস আক্তারের অভিযোগ সঠিক নয়।”